বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি ও দ্বান্দ্বিক মতবাদ

ছাত্রলীগ হবে আদর্শিক যারা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পথচলা অনুসরণ করে থাকে। শেখ মুজিব একজনই ছিলেন তাই তিনি দেশভাগের আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 


কিন্তু হতাশার কথা হচ্ছে আমাদের সময়কার ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা খুব বেশিদিন কোথাও নেতৃত্বে থাকতে পারছেনা, কিন্তু কেন? তবে অনেক ভালো, যোগ্য ও সক্ষম নেতা ও রয়েছে।। আবার অনেকেই নেতৃত্বে আসার জন্য যেকোন ধরণের হীন কাজ করতেও দ্বীধা করেনা, আবার অমানবিক ও বটে। তবে দলীয় রাজনীতিতে এইরকম হেন কাজ সব দলের মধ্যেও বিদ্যমান। 


আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এসে আসলে কি শিখছি তাহলে; নাকি আমাদের শিক্ষকরা আমাদের উদ্দামতার কাছে পরাজিত; পারছেনা আমাদের একটি সুন্দর ও ন্যায় কালচার (সংস্কৃতি) উপহার দিতে। এপ্রসঙ্গে আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভিসি ড. মিজানুর রহমান স্যার প্রায় বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় আসলে তোমাদের কি শিখাবে, কিছুইনা কিন্তু তোমাদের মধ্যে এমন একটি সুন্দর ও ন্যায়ের কালচার গড়ে তুলবে; যা দিয়ে তোমরা যেকোন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে ও জব অভিযোজন সহজেই করতে পারবা।" সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তাই করে থাকে; কিন্তু কতিপয় গোষ্ঠী, দল ও ব্যক্তির পাল্লায় পরে বিগড়ে যাচ্ছে এই যুব সমাজ। 


সমস্যাটা আসলে কোথায়? আমরা কেন কেউ কাউকে মানছিনা? তাহলে কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের কালচার শিখাতে ব্যর্থ? নাকি বাংলাদেশে এখনো সেই পরিবেশ হয়নি? যখনই শুনি বুয়েট ও মেডিকেলের ছেলে-মেয়েরা বিসিএস এ ১ম / ২য়, তখন প্রশ্ন জাগে তাহলে ভাইয়া/আপু এই চারটা বছর সরকারের এতোগুলো টাকা খরচ করার মানে কি ছিল; আমাদের মতো জেনারেল এ পড়লেই পারতেন। সত্যিই বাংলাদেশে এখনো সেই পরিবেশ হয়নি, আসেনি ও ছিল ও না, মনে হয় হবেনা। 


একসময় আমাদের বলা হতো শান্তিপ্রিয় জাতি আর এখন হয়ে গেছি ইস্যুপ্রিয় জাতি। শত ইস্যুর চাপাকলে পরে আজ যুবসমাজ সবকিছুতেই ইস্যু খুঁজে। আমাদের নবীনদের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে শোনা কথায় অধিক বিশ্বাস করি এবং নিজের মেধা ও প্রজ্ঞাকে ভুলে যাই। আর নিজের উপলব্ধি ও মূল্যায়ন ক্ষমতা কম হওয়ার কারণে আমাদের ধর্মীয় কোন্দল যেমন অত্যধিক; তেমনি গোষ্ঠীগত কোন্দল ও অত্যধিক। যারাই কোন বিষয়ে ভাবতে পারেনা তারাই চেতনাবাজ। বাংলাদেশে এটা অস্বীকার করার জো নেই যে; আদর্শিক আওয়ামী - ছাত্রলীগের চেয়েও চেতনাবাদীদের সংখ্যা ভরপুর। এই চেতনাবাজদের চেতন বহুকাল আগেই হারিয়ে গিয়েছে যখন থেকে ওরা অন্যদের অন্ধভাবে অনুসরণ করছে; আমি হলফ করে বলতে পারি এই চেতনাবাজরা আজ পর্যন্ত শেখ মুজিবের আত্মজীবনী বইটাও পড়ে দেখেনি-শুধুই চেতনার জোরে অধিক চিল্লায়।। 


আসলে কি জানেন, যারা অধিক পড়াশোনা করে বা যেকোন আদর্শকে লালন করে তারা কখনোই হিংস্র হতে পারেনা। আর বর্তমান যুগকে বলা হয় "Age of Information & Networking". ফেইসবুক উন্মুক্ত হওয়ায় সবারই সবকিছুতে অধিকার আছে; আছে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের; আছে যে কাউকে লাইক ও ফলো করতে। আচ্ছা আপনারা যারা ফেবুর লাইক নিয়ে বিতর্ক করেন, তাদের বলি আপনি কয়জন আওয়ামি-ছাত্রলীগের নেতার প্রোফাইল ও পেইজে First See দিয়ে রাখছেন; আপনি কী অন্য মতাদর্শী কোনো পেইজে লাইক দেননি? আচ্ছা আপনি যদি অন্য মতাদর্শী পেইজে নাইবা লাইক (Follow) না দিয়ে থাকেন তাহলে আপনি তাদের অপকর্ম কিভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন? আসলে এসব নিছকই ইস্যু; আরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছেলে-মেয়েরাই সকল মতাদর্শী মানুষ ও পেইজে লাইক দিয়ে রাখে যেমন আমি টপ ইংরেজি বাংলা নিউজপেপার First See দিয়ে রাখছি (কেননা আমার দরকার দেশি ও বিদেশি সকল প্রকার নিউজ)। সাথে দেশে প্রভাব বিস্তারকারী ও আওয়ামী এবং ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে ফলোতে রাখতে হয় সবার আগে প্রয়োজনীয় নিউজগুলো পেতে; তারপর বিচার বিশ্লেষণ এর জন্য রয়েছে সংবাদ মাধ্যমগুলো। 


আমার মনে হয় এটা একজন মানুষের সহজাত ব্যাপার হওয়া উচিত তা না হলে ভিশন ২০২১ এবং A2i (Access to Information) এর মানে কী? নিজেদের স্বার্থে দলীয় ক্ষতি কাম্য নয় বরং দেশের জন্য হুমকি। তবে আশার কথা হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমসাময়িক উদ্যোগগুলো প্রশংসার দাবিদার; এই মহৎ উদ্যেগগুলো কখনোই বিশ্বজিৎ থেকে আবরার (জগন্নাথ থেকে বুয়েট) হতে পারেনা। দরকার আরও মানবিক ও ছাত্রবান্ধব নেতা যারা কেবল বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালোবেসে রাজনীতি করে; যেখানে নারী ও অর্থ হচ্ছে তুচ্ছ এবং সকল ছাত্রভাইয়েরা নিরাপদ।।


মানুষ হত্যা কখনোই সমাধান নয় যা পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য ও নির্মম আচরণ। চলতি পথে রাজনীতির মাঠে অনেক কিছুই ঘটে যা বুজতে ও জানতে পারি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আদর্শিক বড় ভাই জনাব মো: লুৎফুর রহমান (সাবেক সহ-সভাপতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে) এর সাথে চলাফেরা করে ও লাকসাম মনোহরগঞ্জ আসন থেকে আগত মন্ত্রী সাহেব (জনাব মো: তাজুল ইসলাম) এর বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। কখনোই তাদের কাছ থেকে মানুষ হত্যার পরামর্শ বা অন্য যেকোন গর্হিত কাজের কথা শুনিনাই। তাহলে আমরা কাদেরকে গুরু মানছি আসলে; নাকি রাজনীতি মানেই টাকার পাহাড় ও নারীর স্বর্গরাজ্য? 


আমার কথাগুলো আসলে সকল দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। রাজনীতির আবহাওয়াটা বহু আগেই নষ্ট হয়ে গেছে যখন আমরা রাজনীতির কিছুই বুজতাম না, যাই দেখি অনলাইনে বিভিন্ন নিউজ ও ডকুমেন্টারি তে। আমরা যুব সমাজ যারা পড়াশোনা করি বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে, তারা স্বভাবতই দেশ, জাতি ও সমাজ ব্যাবস্থা নিয়ে একটু বেশিই ভাবে; তাইতো দেশের স্বার্থে সকল ধরণের আন্দোলনে তাদেরই দেখা মিলে বেশি। আবার তারাই হয় আস্তিক, নাস্তিক, ব্লগার, কলামিস্ট, গবেষক, রাজনীতিবিদ ও কবি-সাহিত্যক; তাই তারাই দেশের সকল আদর্শ নিয়ে কথা বলে, লেখালেখি করে; হয়তো কারও লেখা ও ভাবনা আপনার আমার সাথে মিলে না; তাই বলে তো তাকে না বুঝিয়ে মেরে ফেলতে পারিনা। এই দু:সাহসিকতার নি:শেষ কোথায়?


কোথাও নেই আশা, নেই কোন ভরসা; শুধুই হতাশা। সঠিক নেতৃত্বে, শিক্ষায় ও আদর্শে এগিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও আমাদের ভালোবাসার ভূমি। পরিবার, সমাজ ও দেশকে ভালোবাসুন। মানুষকে সুযোগ দিন; কাপুরুষতা দেখাবেন না।। 


বি:দ্র: নিরপেক্ষ ও বাস্তবিক মতামত গ্রহণযোগ্য।


_মাহিন/সমাজকর্ম/জবি

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url