গবেষণা প্রস্তাব বা রিসার্চ প্রপোজাল এর ধারণা, উপাদান, পদ্ধতি ও বিবেচ্য বিষয়

গবেষণা প্রস্তাব হলো গবেষণা সংক্রান্ত পূর্ব পরিকল্পনা যা অনুসরণ করে একজন গবেষক তার গবেষণা কার্য পরিচালনা করেন। গবেষণা প্রস্তাবকে গবেষণার চিত্র বা সারসংক্ষেপ (Synopsis) বলা হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রাক্কালে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার শুরু হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বিশ্বে যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে তা কিন্তু ব্যবসায়ের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণার ফল।


গবেষণা প্রস্তাব বা রিসার্চ প্রপোজাল এর সংজ্ঞা

সামগ্রিক গবেষণা কার্যক্রমের পূর্ব পরিকল্পনাকে গবেষণা প্রস্তাব বলে। গবেষণা প্রস্তাবকে গবেষণার সারসংক্ষেপ (Synopsis of Research) বলা হয়। গবেষণা প্রস্তাব আসলে গবেষণা নকশার লিখিত দলিল। কোনো গবেষণা কার্য শুরু করার ক্ষেত্রে এটি এক ধরনের রোডম্যাপ। একজন গবেষক যখন কোনো বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করতে চান, তখন অবশ্যই তাকে গবেষণা প্রস্তাব তৈরি করতে হয়। গবেষণা প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করেই গবেষক সামগ্রিক গবেষণাকর্ম পরিচালনা করে থাকেন।

$ads={2}

M. Zainul Abedin Zuvi তাঁর ‘A Handbook of Research’  গ্রন্থে বলেন যে “A proposal deals with the ideas of a researcher about what research he wants to do, what objectives and methodology he has set for the research, how much time and resources are required to complete the research". অর্থাৎ একজন গবেষক কী গবেষণা করতে চান তার ধারণাসমূহ, তিনি গবেষণার জন্য কী উদ্দেশ্যাবলি ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে চান, গবেষণাটি সম্পন্ন করতে কত সময় ও সম্পদের প্রয়োজন, গবেষণা প্রস্তাব এ সকল বিষয় নিয়ে কাজ করে।


প্রস্তাবে সর্বদা গবেষণা কার্যের উদ্দেশ্যের একটি বিবরণ, গবেষণার সমস্যার সংজ্ঞা ও সিদ্ধান্তের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। একটি ভালো গবেষণা প্রস্তাব পদ্ধতিগতভাবে নির্দিষ্ট গবেষণা পদ্ধতি এবং বিশদ প্রক্রিয়াগুলোর রূপরেখা দেয় যা গবেষণাকার্যের প্রতিটি পর্যায়ে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ ব্যয় এবং সময়সীমা গবেষণা প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে। গবেষণা প্রস্তাবটি গবেষক এবং গবেষণা ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রাথমিক যোগাযোগের নথি হিসাবে কাজ করে। গবেষণাটি কেন এবং কীভাবে পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে সমস্ত অস্পষ্টতা গবেষণা প্রস্তাবের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়।

Components and Elements of Research Proposal

গবেষণা প্রস্তাবের উদ্দেশ্য

কোনো কার্যই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছাড়া সম্পাদন হয় না। তাই গবেষণা প্রস্তাবেরও কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। এ সকল উদ্দেশ্যাবলির জন্যই গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়।

$ads={2}

গবেষণা প্রস্তাবের উদ্দেশ্যাবলি হলো:

(১) একজন গবেষক কী বিষয়ে বা কোন ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্য গবেষণা করছেন তা গবেষণা প্রস্তাবের মাধ্যমে জানা যায়।

(২) গবেষণা প্রস্তাবের মাধ্যমে গবেষণার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

(৩) গবেষণা কার্যের জন্য কী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে তা জানার উদ্দেশ্যে গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়। 

(৪) একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে কত সময় ও অর্থের প্রয়োজন তার অগ্রিম বাজেট করার জন্য গবেষণা প্রস্তাবের প্রয়োজন হয়।

(৫) গবেষণা প্রস্তাবের গবেষণা কার্য সম্পাদন করতে কী ধরনের, কী পরিমাণ সম্পদের প্রয়োজন তা নিরূপণ করা যায়। আর এই পূর্বানুমানের উদ্দেশ্যে গবেষণা প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়ে থাকে।

$ads={1}

কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা পরিচালনার প্রাথমিক কাজ হলো গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুত করা। গবেষণা প্রস্তাব সামগ্রিক গবেষণা কার্যক্রমের পূর্ব পরিকল্পনা। যাতে গবেষণার বিষয় বা সমস্যা, গবেষণার উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়। গবেষণা প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করেই গবেষক সামগ্রিক গবেষণাকর্ম পরিচালনা করে থাকেন এবং গবেষণা প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো গবেষণার রূপরেখা তৈরি করা ও পৃষ্ঠপোষকের সাথে যোগাযোগ করানোর ব্যবস্থা করা।


গবেষণা প্রস্তাবের উপাদান/পদ্ধতিসমূহ

গবেষণা হলো মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায় বিজ্ঞানী বা গবেষকের কার্যাবলি।গবেষণা প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই গবেষক সামগ্রিক গবেষণাকর্ম পরিচালনা করে থাকেন। একটি উত্তম গবেষণা প্রস্তাবে যে সকল উপাদান বা সূচিপত্র অন্তর্ভুক্ত থাকে তা নিন্মে উপস্থাপন করা হলো:

$ads={1}

১. গবেষণা শিরোনাম (Title of the study)

২. ভূমিকা (Introduction)

৩. গবেষণা সমস্যার বিবৃতি (Statement of the research problems)

৪. সাহিত্য পর্যালোচনা (Literature Review)

৫. গবেষণার যৌক্তিকতা (Justification of the Study)

৬. গবেষণা উদ্দেশ্য (Objectives of the study)

৭. গবেষণা প্রশ্ন (Research Questions)

৮. গবেষণা অনুমান (Research Hypothesis)

৯. গবেষণা পদ্ধতি (Methods of Research)

১০. প্রস্তাবিত সময়সূচি (Proposed Schedule)

১১. বাজেট প্রণয়ন (Preparation of Budget)

১২. সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি (Bibliography/ Reference)

$ads={2}

(১) গবেষণা শিরোনাম: একটি গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুত করার সর্বপ্রথম ধাপ হলো গবেষণার উপযুক্ত শিরোনাম প্রদান করা। উক্ত শিরোনাম থেকে যেন স্পষ্ট বুঝা যায় যে কী বিষয় নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। শিরোনামটি অবশ্যই সংক্ষিপ্ত, স্বব্যাখ্যাত এবং সহজবোধ্য হতে হয়। গবেষণা শিরোনামটি এমন হতে হবে যেন খুব বেশি বড় না হয়, আবার ছোটও না হয়। গবেষণা শিরোনামটি দেখে যে কেউ যেন এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে।


(২) ভূমিকা: গবেষণার বিষয় সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ও সাধারণ বিবরণ থাকবে। গবেষক যে বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবেন তা কী? কতখানি গুরুত্বপূর্ণ? এর যৌক্তিকতাই বা কী? ভূমিকায় এ সকল বিষয়ের সহজবোধ্য সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকবে।

 

(৩) সমস্যার বিবৃতি: গবেষণা প্রস্তাবের সমস্যার বিবৃতিতে গবেষণা সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। গবেষণা সমস্যা অংশের দ্বারা পৃষ্ঠপোষককে পুরো গবেষণা প্রস্তাব পড়ার জন্য আগ্রহী করে তোলা হয়। সমস্যার ধরন, ধারাবাহিকতা ও উপস্থাপন দ্বারা এর পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। গবেষণা প্রস্তাবের এ ধাপে গবেষণা সমস্যার বিস্তারিত বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। বরং মূল সমস্যা কী এবং কীভাবে তার সমাধান হবে, তা উল্লেখ করা প্রয়োজন।


(৪) সাহিত্য পর্যালোচনা: সাহিত্য পর্যালোচনা সাম্প্রতিক গবেষণা পরীক্ষা, কোম্পানির ডেটা বা বড় শিল্পের প্রতিবেদনগুলোর অধ্যয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। গবেষণা প্রস্তাবের এ ধাপে গবেষণা সমস্যার বিষয়ে পূর্বে কোনো সমীক্ষা, পরিবীক্ষণ বা গবেষণা হয়েছে কিনা তা উপস্থাপন করা হয়। গবেষক যে বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন তার কাছাকাছি কোনো বিষয়ে গবেষণা ফল থাকলে তা সূত্রসহকারে উল্লেখ করতে হয়। সাহিত্য পর্যালোচনা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে; (ক) এটি গবেষণা সমস্যার সম্পর্কে আরো জ্ঞান প্রদান করে। (খ) এটি গবেষণামূলক প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে প্রদর্শন করে। (গ) এটি প্রাসঙ্গিক সাহিত্যের তথ্য সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়নে গবেষকের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করে।

$ads={1}

(৫) গবেষণার যৌক্তিকতা:  বর্তমান গবেষণা পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা কী, গবেষণালব্ধ জ্ঞান, তত্ত্ব প্রতিষ্ঠায় বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বা কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কী সহায়তা করবে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকতে হবে। 


(৬) গবেষণার উদ্দেশ্য:  গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুতির এ ধাপে গবেষণার মূখ্য উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করতে হয়। এ উদ্দেশ্যগুলো যেন গবেষণা প্রকল্পের সময়কালের মধ্যে পরিমাপযোগ্য, বাস্তবসম্মত এবং অর্জনযোগ্য হয়। অর্থাৎ ব্যবসায় গবেষণার এমন সকল উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে যা বাস্তবে অর্জন করা যায়। গবেষণার উদ্দেশ্যকে আবার অনেক ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র গবেষণামূলক প্রশ্নেও বিভক্ত করা যেতে পারে।


(৭) গবেষণার প্রশ্ন: গবেষণার প্রশ্ন এটি 'এমন একটি প্রশ্ন যা একটি গবেষণা প্রকল্পটি উত্তর দেওয়ার জন্য সেট করে'। গবেষণা প্রশ্ন নির্বাচন করা উভয়ের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান পরিমাণগত এবং গুণগত গবেষণা। তদন্তের জন্য ডেটা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের প্রয়োজন হবে এবং এর জন্য পদ্ধতিটি বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হবে। ভাল গবেষণা প্রশ্নগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান উন্নত করার চেষ্টা করে এবং সাধারণত সংকীর্ণ এবং নির্দিষ্ট থাকে।


একটি গবেষণা প্রশ্ন গঠনের জন্য, একটি গুণগত, পরিমাণগত বা মিশ্র গবেষণা হিসাবে কোন ধরণের গবেষণা করা হবে তা নির্ধারণ করতে হবে one প্রকল্পের তহবিলের মতো অতিরিক্ত বিষয়গুলি কেবল গবেষণার প্রশ্নকেই প্রভাবিত করতে পারে না তবে এটি কখন এবং কীভাবে এটি তৈরি হয়েছিল গবেষণা প্রক্রিয়া সাহিত্যে একটি গবেষণা প্রশ্ন গঠনের জন্য মানদণ্ড নির্বাচনের বিভিন্ন প্রকারের পরামর্শ দেওয়া হয় যেমন FINER বা PICOT পদ্ধতি হিসাবে।

$ads={1}

(৮) গবেষণা অনুমান: গবেষণা অনুমান হলো গবেষণার অস্থায়ী সমাধান সম্পর্কে পূর্বচিন্তা। এ অনুমানগুলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সম্পর্কিত সাহিত্য পর্যালোচনা, বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ, সাক্ষাৎকার বা অভিজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে করা হয়। গবেষণা প্রস্তাবের এ ধাপে অনুমান উন্নয়ন করা হয়ে থাকে। অনুমান অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ও সীমিত হওয়া দরকার যেন তা যাচাই করা যায়। ব্যাপকভাবে সাহিত্য পর্যালোচনার পরে একজন গবেষক পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্টভাবে অনুমান ব্যাখ্যা করে থাকেন।

 

(৯) গবেষণা পদ্ধতি: গবেষণা কার্যটি পরিচালনার জন্য কী ধরনের তথ্যের প্রয়োজনহয়তা নির্বাচন করা হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্য কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে তা এ ধাপে নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন চলক নির্ধারণ, উপাত্ত সংগ্রহের কৌশল নির্বাচন, নমুনায়ন, উপাত্ত সংগ্রহের পরিকল্পনা, প্রশ্নমালা প্রস্তুত, পাইলট জরিপ, মাঠকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি কাজ করা হয়।


এছাড়াও, গবেষণা প্রস্তাবে গবেষককে অবশ্যই তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতি উল্লেখ করতে হয়। তার পাশাপাশি উক্ত তথ্য বিশ্লেষণের জন্য কী ধরনের পরিসংখ্যানিক পরিমাপক বা হাতিয়ার ব্যবহার করা হবে তা বর্ণনা করতে হয়। তথ্য উপাত্ত প্রক্রিয়াজাত করতে শ্রেণিবদ্ধকরণ, তালিকাবদ্ধকরণ, গড়, মধ্যমা, বিস্তৃতি, বিভেদাংক ইত্যাদি পরিসংখ্যানিক কৌশল ব্যবহার করা হয়। তথ্য উপস্থাপনের জন্য আয়তলেখ, মানচিত্র, লেখচিত্র উপস্থাপন করা হয়।


(১০) সময়সূচি: গবেষণা প্রস্তাবের এ ধাপে গবেষণা কার্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কত সময় ব্যয় হবে তা সুন্দরভাবে উল্লেখ করতে হয়। গবেষণা প্রস্তাবের সময়সূচিতে প্রকল্পের বর্ণনা থাকে।এছাড়া, প্রকল্পটি যদি বড় ও জটিল হয় তবে বিকল্প পন্থা হিসেবে গ্যান্ট চার্ট বা সিপিএম (Critical Path Method) বা WBS (Work Breakdown Schedule) ব্যবহার করা হয়। 


(১১) বাজেট: গবেষণা প্রস্তাবে আনুমানিক গবেষণা খরচের জন্য একটি বাজেট উপস্থাপন করতে হয়। বাজেটের আকার গবেষণা কাজের সাথে ন্যায়সঙ্গত হওয়া আবশ্যক। একটি বাজেট সাধারণত বেতন, মজুরি, সরঞ্জাম, ভ্রমণ ব্যয়, প্রত্যক্ষ ব্যয়, উপকরণ ও সরবরাহ, প্রকাশনা, প্রচার, পরামর্শ পরিসেবা ব্যয় ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে। 


(১২) গ্রন্থপঞ্জি: গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুতের সর্বশেষ ধাপ হলো গ্রন্থপঞ্জি উল্লেখ করা। গবেষক গবেষণার জন্য যে সকল সাহিত্য পর্যালোচনা করেন এবং যে সকল, গ্রন্থ, জার্নাল, পেপার, কলাম ইত্যাদি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তার একটি বিবরণী প্রদান হলো গ্রন্থপঞ্জি। 

$ads={2}

গবেষণা প্রস্তাব প্রণয়নে বিবেচ্য বিষয়সমূহ

গবেষণা প্রস্তাব তৈরি করার ক্ষেত্রে একজন গবেষককে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। যে সকল বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা প্রস্তাব তৈরি বা প্রস্তুত করা হয় সেই সকল বিষয়কে গবেষণা প্রস্তাবের বিবেচ্য বিষয় বলে। নিন্মে গবেষণা প্রস্তাবের বিবেচ্য বিষয়সমূহ উল্লেখ করা হলো;


(১) গবেষণা প্রস্তাবের আকার: গবেষণা প্রস্তাবের আকার যেন খুব বড় না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আবার এর আকার খুব সংক্ষিপ্ত হওয়াও বাঞ্ছনীয় নয়।


(২) ভাষা শৈলী: জটিল এবং সহজে বোধগম্য নয়, এমন ভাষা বা বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ গবেষণা প্রস্তাবের ভাষা হবে প্রাঞ্জল।


(৩) পরিকাঠামো: গবেষণা প্রস্তাবের পরিকাঠামো এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যেখানে সকল উপাদান ধারাবাহিকভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে।


(৪) গবেষণা প্রস্তাবের উপাদান বা সূচিপত্র: গবেষণা প্রস্তাবের উপাদান হবে সুসংগত, সুস্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থাৎ উপাদানগুলো দ্বারা যেন মূল গবেষণা প্রতিফলিত হয়।


(৫) গবেষণা পৃষ্ঠপোষকের ধরন ও চাহিদা: কোন ধরনের পৃষ্ঠপোষক অর্থাৎ সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, এনজিও না সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে গবেষণা পরিচালিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদার উপর গবেষণা প্রস্তাব নির্ভর করে।


(৬) গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি ও যৌক্তিকতা: গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্বতি এবং তার যৌক্তিকতার উপরই গবেষণা প্রস্তাবের মান নির্ভর করে। তাই গবেষণার পদ্ধতি ও যৌক্তিকতা গবেষণা প্রস্তাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


(৭) গবেষণার বাজেট ও সময়সূচি: গবেষণা প্রস্তাবের বাজেট অংশে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ, সময় ও কাজ অনুযায়ী ব্যয়ের তালিকা প্রণয়ন করে উপস্থাপন করতে হয়। একইসাথে বিভিন্ন দফার বিপরীতে সময়সূচি অনুযায়ী ব্যয়ের যুক্তিও উল্লেখ করতে হয়।


(৮) গবেষণা সমস্যার সংজ্ঞায়ন: গবেষণা সমস্যার সুস্পষ্ট সংজ্ঞায়নের উপর গবেষণা প্রস্তাবের সার্থকতা নির্ভর করে। গবেষণা সমস্যা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা সুসংজ্ঞায়নের প্রয়াস চালাতে হবে।


(৯) গবেষণা নকশাকরণ ও রুপরেখা: গবেষণা নকশা হলো গবেষণার আগাম পরিকল্পনা। এটা গবেষণার শুরুতেই ঠিক করে নিতে হয়। এর দ্বারা মূলত গবেষণা কার্যের প্রথমেই প্রকৃত কাজের একটি রূপরেখা পাওয়া যায়। এটা সুষ্পষ্ট হলে গবেষণা প্রস্তাবও সুষ্পষ্ট হয়।


(১০) গবেষণা সমস্যার ধারণা গঠন: গবেষণা সমস্যার ধারণা হলো একটি বিষয়বস্তুর সুনির্দিষ্ট নির্যাস, বৈশিষ্ট্য বা নির্দিষ্ট অবস্থা। ধারণা বিমূর্ত ঘটনার মতো; এটি কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্ত নয়। চিন্তার কাঠামো থেকে এটি নির্ণীত হয়। গবেষণা সমস্যার ধারণা গঠন সুসংগত হলে গবেষণা প্রস্তাব অর্থপূর্ণ হয়।


পরিশেষে বলা যায়, উপরে আলোচিত বিষয়গুলো গবেষণা প্রস্তাব প্রণয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। গবেষকের বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক, তা না হলে যথোপযুক্ত গবেষণা প্রস্তাব প্রণয়ন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url